সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ ১৪১৯ । একই সাথে পান্তা ইলিশের নামে একদিনের জন্য বাংগালীপনা নিয়ে যারা অতি ন্যাকামো করেন তাদেরকে আল্লাহ হেদায়াত দান করুন, এই কামণা করি। কেননা তাদের ন্যাকামোর জন্য বাজারে ইলিশ মাছের দাম কয়েকগুন বেড়ে যায় যা অন্যের জন্য কষ্টদায়ক ।
অনেক্ষণ হয়ে গেল লাঠিটার ওপর ভর করে নেহাল সাহেব দাঁড়িয়ে রয়েছেন । এর আগে কখনো তাকে এভাবে দেখিনি। তাই কৌতুহল বশতঃ খুব কাছে এসে দেখলাম, প্রধান ফটকের ওপরে বড় হরফে লেখা সাইনবোর্ডটার দিকে পলকহীন তাকিয়ে আছেন। আমি কয়েকবার তাকে ডাকলাম । উনি একবার তাকালেন। মনে হল যেন আমাকে চিনতেই পারলেন না। কোন কথা না বলে উনি আবার সাইনবোর্ডটার দিকে তাকিয়ে আছেন। আমি এবার উনার হাত ধরে একটু নিজের দিকে টান দিলাম । বললাম,
নেহাল সাহেব, আপনার কি শরীরটা খারাপ ?
...
-সালাম, আমরা সেদিন মরে গিয়ে বেঁচে গিয়েছি, কি বল ?
.ঠিকই বলেছ, বরকত । বেঁচে থাকলে এদের এসব ভন্ডমী সহ্য করতে হত ।
-কিন্তু সহ্য করতে পারতে কি ? না কি আবার অস্ত্র হাতে নিয়ে এর সমুচিত জবাব দিতে?
.কি জানি । হয়তো তাই ই করতাম। না হয় এসব সাধারণ কর্মীদের মত আমরাও কিছুই বুঝতে পারতাম না। আবেগে আত্মহারা হয়ে এদের মত স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতাম।
...
‘বাগ’টা শুকিয়ে ছাই বর্ণ ধারণ করেছে। পড়ে আছে গোয়াল ঘরের পাশে। দেখেই বুঝতে পারলাম, এটির ব্যবহার এখন আর হয়না। অথচ চোখটা বন্ধ করলেই দেখতে পাই নিকুঞ্জ গাছি ‘বাগ’ এর দু’পাশে অনেকগুলো রসের হাড়ি নিয়ে হেলে দুলে হেটে আসছেন। হাটার তালে তালে বাগের মাঝ বরাবর সংযুক্ত আর একটা খন্ডের সাথে ঘর্ষনের শব্দ ’ক---চ্ , ’ক---চ্ , ’ক---চ্ ! যেন এখনো কানে বাজছে। লেপের নীচে আরো কিছুক্ষণ শুয়ে আড়মোড়া কাটতাম আর এই শব্দটা শোনার জন্য কান খাড়া করে থাকতাম। কে এই শব্দ আগে শুনে বলতে পারবে ঃ ’নিকুঞ্জ কাকা এসে গেছে’- ভাই বোনদের মধ্যে তার এক প্রতিযোগীতা ছিল প্রতি...
আবু মিয়ার বয়স এখন চল্লিশ পেরিয়েছে। নিত্যদিনের মত আজও কারণে, অকারণে তার বৌ , বাচ্চাকে পিটাচ্ছে। এ যেন তার জীবনের এক রুটিনওয়ার্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। পাড়াময় অস্থির করে তুলেছে। জীবনের উদ্দেশ্য ঠিক নেই, নেই কোন কর্ম করে উপার্জন করার ক্ষমতা। সংসারে অভাব-অনটন, মেজাজ খিটখিটে, অস্থির, হতাশ ! শর্টকাট ব্যবস্থায় বৌ এর বাপেরটা জোর করে আনা ছাড়া তার আর কোন গতি নেই।
চমকে উঠলাম ! তাকিয়ে দেখি, আমাদের দেশটার বয়সও এখন ৪০!
...
এরকম একটা তুচ্ছ বিষয় নিয়ে সর্বোচ্চ আদালতে আপীল করা কতটা যৌক্তিক ? এ নিয়ে পক্ষে- বিপক্ষে যুক্তি তর্কে কেটে গেছে কয়েকশত বছর । শেষে এটা স্থির হয়েছে যে, যেহেতু বিষয়টা খুবই স্পর্শকাতর এবং প্রাণীকৃল স্বার্থ-মংশ্লিষ্ট বিষয় সেহেতু এটিকে কোনভাবে আর সাধারণ কেইস হিসেবে গন্য করা যায় না। অতএব কেইসটার মেরিট বিবেচনা করা হল এবং মহা বিচারক এটিকে সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে জরুরী ভিত্তিতে শুনানীর জন্য অনুমতি দিলেন । একই সাথে এরকম একটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কেন শত শত বছর অবহেলিত থাকল, তা নিয়েও মহাবিচারপতি গভীর অসন্তোষ জ্ঞাপন করলেন । এ ব্যাপারে...
আফসানা করিম আমার তিন বছর আগে চাকরীতে জয়েন করেছিল। তাকে চিনতাম না। কিন্তু সে আমাকে চিনতো। তখন সে চাকরী করত ইলাতলা উপজেলায় । আমি থাকতাম রাজধানী শহরে। তখনও বিয়ে-সাদী করিনি। তবে মা পাত্রী খুঁজছিলেন। আমাকে বার বার খবর দিচ্ছিলেন, যেভাবেই হোক ট্রান্সফার হয়ে ইলাতলায় চলে আসতে। এই বুড়ো বয়সে কেন এভাবে বাবা মাকে কষ্ট দিচ্ছি? এরকম নানা অভিযোগ । কিন্তু মাকে কি করে বোঝাই ? ওখানে আছেন মহিলা। তাকে সরিয়ে আমাকে ওখানে বদলী করবে না। অতএব বাস্তবতা মানতে হবে।
গরম পানির গলিতে একটা মেসে থাকতাম। আমার...
এই পিচ্চি, অনেক হইছে, অহন উঠ ।
পাঁচ/ছ’বছরের একটা মাসুম বাচ্চাকে এরকম ভাষায় চোখ বিস্ফারিত করে এভাবে ধমকে কথা বলায় আমার হাটার গতি মন্থর হল। অন দ্য স্পট ব্রেক কষলাম । লোকটার চেহারা আর ভাষার বিশ্রি ব্যবহারে এটা নিশ্চিৎ হলাম যে, সে আমাদের কম্যুনিটির কেউ নয়।
চিরকালের স্বভাব । অপ্রিয়, অশোভন কিছু ঘটতে দেখলে মগজটা রেসপন্ড করেই বসে। স্থান, কাল পাত্র বিবেচনার ধার ধারে না। তো বিষয়টা তেমনি অনুকুল গ্রাহ্য হওয়ায় বরাবরের মত তথাকথিত অযাচিত হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হলাম...
এক দেশের এক রাজা হঠাৎ মারা গেলেন। রানী খুব অসহায় গেলেন । রাজার কুলখানী অনুষ্ঠানে এক ফকির এসে এদিক ওদিক ঘুরে ফিরে কিছু ফেলে দেয়া উচ্ছিষ্ট পেল। বেশ মজার হালুয়া । খুব স্বাদ । ফকির চিন্তা করল এখনো খাওয়া দাওয়া চলছে। তাই আরো পাওয়া যেতে পারে এই আশে রাত অব্দি কোনা কানিতে লুকিয়ে ছিল । রাতে সভায় রানী ঘোষণা দিলেন, কাল সকালে ঘুম থেকে উঠে তিনি যাকে আগে দেখবেন, তাকেই রাজার মুকুট পরিয়ে সিংহাসনে বসিয়ে দিবেন। ফকির বেটা আরো কিছু হালুয়ার উচ্ছিষ্ট পেয়ে খেয়ে দেয়ে এক কোণে ঘুমিয়ে গেল। রানী সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে এই বেটা দরজার আড়ালে ঘুমাচ্ছে।...