যেদিন তাড়া বেশি থাকে সেদিন ঝামেলাও বেশি হয়, এটা বুঝি অবধারিত নিয়ম।তাই গত-পরশুও এ নিয়মের পরিবর্তন হয় নি। তাই ১টার ক্লাস ধরার জন্য যখন দেরী করে ঘর থেকে বের হলাম, তখন মনে মনে দোয়া করছিলাম হে আল্লাহ্ ক্লাসটি যেন সময়মত ধরতে পারি। কিন্তু বিধিবাম তাই কল্যাণপুর হতে শ্যামলী আসতেই প্রায় ৪৫ মিনিট লাগল, তারপর আরও কত কি?
কিন্তু অবাক হলাম যখন আসাদগেটের কাছাকাছি এসে প্রথমে কিছু অল্প বয়সী ছেলেদেরকে ফাইল হাতে দেখতে পেলাম। ভাবলাম এস এস সি পরীক্ষা চলছে তাই হয়ত ওরা পরীক্ষা শেষ করে বের হল। আর একটু সামনে এগুতেই দেখি আরও বেশ কিছু লোকের লম্বা লাইন, বেশ কৌতূহল হল, ব্যাপারটা কি? আর একটু সামনে যেতেই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেল। আসলে এটি ছিল ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জশনে জুলুছ মিছিল, মিছিলের এত লোক!!!!
লোক সমাগম দেখে এটুকু-ভেবে সান্ত্বনা পেলাম যে অন্তত: রাসুল (সঃ) কে ভালবাসার মত লোকের অভাব নেই। কিন্তু রসুলের প্রতি ভালবাসা কি একদিন বা একবেলার মিছিলে অংশগ্রহণ করলেই শেষ হয়ে যায়? না কি এ ভালবাসা সার্বক্ষণিক, জীবনের প্রতিটিমূহুর্তে প্রকাশ করতে হয়?
আসলে রাসুল (সঃ) তো সমস্ত পৃথিবীর জন্য রহমত হিসাবে এসেছিলেন।তার আগমনেই ধন্য হয়েছিল সমস্ত পৃথিবী।তাইতো পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ্ তাঁকে বলেছেন
“ আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরুপ প্রেরণ করেছি” সুরাঃ আম্বিয়া।
তাই এমন একজন মানুষকে ভালবাসা কি শুধু দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে? না কি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তার পূর্ণ অনুসরণের মাধ্যমেই তাঁর প্রতি পরিপূর্ণ ভালবাসা প্রকাশ পাবে। আমার তো এটিই মনে হয়? তাহলে এতটা আড়ম্বরের সাথে একটি বিশেষ দিনে তাঁকে স্মরণ করা কি তাঁর প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন?
আমি একথা অবশ্যই স্বীকার করব যে, ইসলামের ইতিহাসে বারই রবিউল আওয়াল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, শুধু রাসুল (সঃ) এর জন্ম বা ওফাতের জন্য নয়, ইসলামের অনেক গুরত্বপূর্ন ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এই দিনে। যেমন হযরত জিবরাইল (আঃ) এর সাথে রাসুল (সঃ) এর প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল এই দিনে, এবং তিনি এ দিনেই নবুয়তের সুসংবাদ প্রথম লাভ করেন। এছাড়াও রাসুল (সঃ) মক্কার কষ্টকর জীবন থেকে মদিনার উপকণ্ঠে কূবায় এসে পৌঁছেছিলেন এই দিনে, বলা বাহুল্য এই শুভদিন থেকেই হিজরি সাল গণনা শুরু হয়। তাই ইসলামের ইতিহাসে এ দিনটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু আমাদের রসুলের প্রতি ভালবাসা, এই একটি দিনে সীমাবদ্ধ রাখাকে কেমন জানি প্রতারণা মনে হয়, কেননা যেখানে মহান আল্লাহ্ স্পষ্ট করে বলেছেন
“ হে নবী লোকদের বলে দাও,তোমরা যদি প্রকৃতই আল্লাহর প্রতি ভালবাসা পোষণ কর তবে আমার অনুসরণ কর, তাহলে আল্লাহ তোমাদের ভালবাসবেন এবং তোমাদের গুনাহ মাফ করে দেবেন। তিনি বড় ক্ষমাশীল ও দয়ালু। (সুরাঃআল-ইমরান,সুরা নং ৩ আয়াত নং; ৩১)। সেখানে আমাদের রসুলের প্রতি ভালবাসা কিভাবে একদিনের জন্য হতে পারে?
তার অনুসরণ তো আমাদের সব সময় করা উচিত, তাই ঘটা করে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে জশনে জুলুছ মিছিল, না করে তার আদর্শ কে যদি আমরা আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পারি( যেমনটা সাহাবারা করেছিলেন) তাহলেই হয়ত ১২ রবিউল আওয়ালের শিক্ষা কিছুটা কাজে লাগবে। আমরা আল্লাহ্র রাসুল কে ভালবাসি আর এই ভালবাসা প্রমাণ করব আমাদের প্রতিটি কাজ,চিন্তা এবং চেতনার মাধ্যমে লালন করে। যদি সেটা করতে না পারি তাহলে একদিনের লোকদেখানো কাজ শুধু অর্থহীনই নয়, বরং এ থেকে সওয়াব আশা করাটাও বোকামি হবে।
তাই আসুন কবি মতিউর রহমান মল্লিকের আফসোসকে আমরা কিছুটা হলেও দূর করার চেষ্টা করি। তিনি খুব দুঃখ করে বলেছিলেন,
“তোমাকে(রাসুল সঃ) স্মরণ করতে দেখিনি কেবল প্রতিটি কাজে
প্রতি ভাবনায়, প্রতি চিন্তায়, প্রতি চেতনার মাঝে।”
আমরা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসুল (সঃ) এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে তার প্রতি ভালবাসার প্রমাণ দেই।এবং দিবস কেন্দ্রিক বাহুল্যতা ত্যাগ করি।
আবু জারীর লিখেছেন : আমাদের ভালোবাসা ইহুদী নাসারাদের মত এখন দিবসের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়েগেছে!
সে ভালোবাসাও আবার বিকৃত শিরক বিদায়াতে পরিপূর্ণ!
কল্যান পুর!
একদিন খুজে বেড় করে ফেলব সেদিন কিন্তু বলতে পারবেন না, 'চিনিনা'!
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
০৪ ফেব্রুয়ারী ২০১২; রাত ১০:১১
629542
সত্যানুসন্ধানী লিখেছেন : একদিন খুজে বেড় করে ফেলব সেদিন কিন্তু বলতে পারবেন না, 'চিনিনা'!
০৪ ফেব্রুয়ারী ২০১২; রাত ১০:৪০
629592
সুমাইয়া জামান লিখেছেন : আবু জারীর ভাইজান, আপনার পেশারে আমি ডরাই। তাও যদি এমন করে বলেন তাহলেতো
ছাড়া আর গতি নেই। সে যাই হোক আমি এত বোকা না, জায়গার নাম এমনি এমনিও তো দিতে পারি
। তারপরও যদি বাসায় আসতে পারেন তাহলে কথা দিচ্ছি আমি আমার পঁচা হাতের রান্না খাওয়াব।
।
০৪ ফেব্রুয়ারী ২০১২; রাত ১১:০৭
629634
আবু জারীর লিখেছেন : দাওয়াত কবুল! এখন থেকেই উপস্থিত হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করলাম।
৪
636929
০৪ ফেব্রুয়ারী ২০১২; রাত ১০:০১
সোর্ড অব ট্রুথ লিখেছেন : ওরা রাসুল(সাঃ) কে ভালোবাসার নামে ইসলামে নতুন নতুন অনুষ্ঠানের(হিন্দুদের অনুকরনে) সুচনা করছে আর প্রকৃত ইসলামকে গোপন করছে। এদের ব্যাপারে মানুশকে সাবধান হতে অবে।
আবূসামীহা লিখেছেন : সুমাইয়া, অনেক সুন্দর অনুভূতি। তবে নীচের কথাগুলো মনে হয় আরেকটু যাচাই করা দরকারঃ
"আমি একথা অবশ্যই স্বীকার করব যে, ইসলামের ইতিহাসে বারই রবিউল আওয়াল যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, শুধু রাসুল (সঃ) এর জন্ম বা ওফাতের জন্য নয়, ইসলামের অনেক গুরত্বপূর্ন ঘটনা সংঘটিত হয়েছে এই দিনে। যেমন হযরত জিবরাইল (আঃ) এর সাথে রাসুল (সঃ) এর প্রথম সাক্ষাৎ হয়েছিল এই দিনে, এবং তিনি এ দিনেই নবুয়তের সুসংবাদ প্রথম লাভ করেন। এছাড়াও রাসুল (সঃ) মক্কার কষ্টকর জীবন থেকে মদিনার উপকণ্ঠে কূবায় এসে পৌঁছেছিলেন এই দিনে, বলা বাহুল্য এই শুভদিন থেকেই হিজরি সাল গণনা শুরু হয়।"
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
০৪ ফেব্রুয়ারী ২০১২; রাত ১০:৫৫
629613
সুমাইয়া জামান লিখেছেন : মোটামুটি বিশুদ্ধ সোর্স থেকেই পেয়েছি, যদি ভুল হয়ে থাকে দয়া করে জানাবেন প্লীজ, আমি ঠিক করে দেব। মন্তব্য করার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আফিফা যয়নাব লিখেছেন : আসলে এটা কোন ঈদও নয়। মুসলিমদের ঈদ দু'টি- ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা। রাসূল (সা
তো দূরের কথা, সাহাবীরাও একে ঈদ হিসেবে পালন করেন নি। পোস্টের জন্য ধন্যবাদ।
মাহমুদ নাইস লিখেছেন : বড় খুশি হইলাম। আপ পিলাচটা বাকী ছিল। একেবারে ১৫তম পিলাচ আর
১৬
637456
০৫ ফেব্রুয়ারী ২০১২; সকাল ১১:২৯
পুস্পিতা লিখেছেন : আমরা আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসুল (সঃ) এর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশের মাধ্যমে তার প্রতি ভালবাসার প্রমাণ দেই।এবং দিবস কেন্দ্রিক বাহুল্যতা ত্যাগ করি। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে এ কথাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ধর্মীয় বিষয়ে নয় এখানে সবকিছু দিবস কেন্দ্রীক।
ডাঃ নোমান লিখেছেন : দিবসকেন্দ্রিক ভালোবাসায় হয়ত সাময়িক আবেগ থাকে কিন্তু আমাদের উচিত পরিপূর্ণ জীবনে তাকে অনুসরন করে নিছক আবেগের বশে নয় । ধন্যবাদ
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
১২ ফেব্রুয়ারী ২০১২; দুপুর ০২:৩১
641251
সুমাইয়া জামান লিখেছেন : সুন্দর বলেছেন, অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
১৯
638738
০৬ ফেব্রুয়ারী ২০১২; সকাল ১১:৫২
আবু তাহের মিয়াজী লিখেছেন : আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা আমাদের সকল প্রচেষ্টাকে ইবাদত হিসাবে কবুল করুন। আমীন।।
[-O
কীবোর্ড
Bijoy UniJoyPhoneticEnglish
নাম:
মন্তব্য:
তথ্য পাঠানো হচ্ছে, অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন
২০
643205
০৯ ফেব্রুয়ারী ২০১২; সকাল ১১:১৯
লাল বৃত্ত লিখেছেন : ঔ যে, ভোগবাদী জীবন তো আদর্শবাদী জীবনের শিক্ষা কিংবা অনুভুতি থেকে বহুদুরে অবস্থান করে, সেই বস্তুতান্ত্রিকতাই আমাদেরকে দিবস উদযাপনে উৎসাহিত করে, বাবা দিবস মা দিবসের মতই এখন চলে আসছে নবী দিবস (যেটার নাম জশনে জুলুশ)।
এইসব মগজহীন মানুষদেরকে কে বুঝাতে যাচ্ছে? দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষ ইসলামের নামে ভ্রান্তির মাঝে ডুবে রয়েছে, তাদের ভালোবাসা নিখাঁদ- কিন্তু বেয়াদব নেতাগুলোর আঙ্গুলি হেলেনে সেই নিখাঁদ ভালোবাসাগুলোকেই গোমরাহীর জন্য ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত এই যঘন্য লোলুপ মানুষগুলো।
আল্লাহ সাধারণ মানুষের চিন্তা চেতনাকে বদলে দেয়ার তাওফিক আমাদেরকে দান করুন। আমীন।