যদি জিজ্ঞেস করা হয় তারেক মেহান্না মানুষটি কেমন, তাহলে তার পরিচিত জনেরা বলে থাকেন, তিনি বিনয়ী, গুরুগম্ভীর, সহানূভূতিশীল, মহিমান্বিত এবং ডেডিকেটেড একজন মানুষ। কিন্তু আজ, তার যে পরিচয়টা আর সবকিছুকে ছাপিয়ে উঠেছে, তা হচ্ছে তিনি একজন সত্যভাষী মুসলিম। মুসলিম বিশ্বে নব্য ফের’আউন আমেরিকার নিষ্ঠুর আগ্রাসী পররাষ্ট্র নীতির বিরুদ্ধে কথা বলার “অপরাধে” আজ স্পষ্টবাদী এই মানুষটিকে আজ ১৭ বছরের কারাদন্ডে দন্ডিত করা হয়েছে।
কোন জাতির মাঝে যদি চিন্তা করার অভ্যাসটা বিলুপ্ত হয় এবং স্রোতে গা ভাসিয়ে দেয়ার চেতনা প্রবল হয় তখন সে জাতির চিন্তা-বিশ্বাস-কর্ম-আচরণ-আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে বিরাজমান বৈপরীত্য (contradiction) গুলো দৃশ্যমান হয় কিন্তু লোকে সেটা দেখেও বুদ্ধিবৃত্তিক দীনতার দরূন সেগুলো ধরতে পারে না। যেমন ধরা যাক, নববর্ষের কথা আসলেই এদেশের সুশীল সমাজের কর্ণধারেরা মুখে একটা আলগা গাম্ভীর্য টেনে বলেন, “এ তো আবহমান বাংলার শত বছরের ঐতিহ্য”। আগামীকাল নববর্ষ পালনের নামে যা হবে তা কি আসলেই আবহমান বাংলার ঐতিহ্য কিনা,...
আমার খুব ইচ্ছা করে, তোমাকে কিছু কথা বলি। কথাগুলো মনে হয় তোমার ভাল নাও লাগতে পারে, তবু বলি। কিছুকথা আছে বলতে যেমন সাহস লাগে, শুনতে এবং মানতে তার থেকে বেশি সাহস লাগে। কথাগুলো তেতোঁ এবং অপছন্দনীয়ও হতে পারে, কিন্তু তবু বলি, একটু শোন।
ভাই, তুমি আসলে কিসের পেছনে দৌড়ে বেড়াচ্ছ? তোমার এই ছোট্ট জীবনটাতে তোমার সবচেয়ে...
“একুশ শতকের এই যুগে” টাইপের কিছু কথা আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে যেগুলো বলে মানুষের ভাব নেয়ার একটা প্রবণতা খুব systematically তৈরি করা হয়েছে। ভাবটা এমন যে শুধুমাত্র এই যুগের মানুষগুলোই আধুনিক আর বাকি সবাই ক্ষ্যাত টাইপ। কারণ হিসেবে দেখানো হয় মানুষের জীবনযাত্রার মান অনেক উন্নত হয়েছে আর মানুষ কিছু নির্দিষ্ট আদর্শ/মূল্যবোধ এগুলো মেনে চলে। যদি কথাটা ভেঙ্গে বলি তাহলে দাঁড়ায়, বর্তমান বিশ্বে পশ্চিমা মূল্যবোধগুলো যে বা যারা গ্রহণ করেছে তাদেরকে স্মার্ট/ক্ষ্যাত যাই বলেন না কেন, আধুনিক হিসেবে ধরা হয় আর বাকিদের জন্য বর্বর/মধ্যযুগীয় এই ধরণের শব্দগুলো বরাদ্দ দেয়া হয়।
...
অনেকে নিশ্চয়ই পত্র-পত্রিকায় দেখেছেন সরকার টাকা ছাপাচ্ছে। মনে কি এই প্রশ্নটা কি এসেছে মনে যে এই কাজটা কি হালাল নাকি হারাম ? করার কথা না, কারণ আল্লাহকে বাদ দিয়ে হালাল-আরাম ঘোষণার অধিকার তো তুলে দিয়েছেন কিছু মানুষের হাতে যারা তাদের মোটা মাথা দিয়ে টাকা ছাপিয়ে আপনার পায়ে কুড়াল মারাকে আইন করে "হালাল" বানিয়েছে।
একটু চিন্তা করলেই বুঝবেন যে কোন ধরণের "রিসার্ভ" এর সাপেক্ষে টাকা না ছাপালে (out of thin air) পণ্যের প্রকৃত মূল্য বাড়ে না, বরং একটুকরো কাগজকে...
"নীতিমালা লঙ্ঘন" এর কারণে গতকাল পাবলিশ করা, "মিথ্যে স্বাধীনতা থেকে মুক্তির পথে ..." পোস্টটা মর্ডারেটর ডিলিট করে দেন। যদিও বলা আছে, এই ব্লগ হল "সকল মতের মিলন মেলা"।তো যাই হোক, লেখাটা এইখানে পাবেনঃ
ভিডিও ক্লিপটা ছোট, মাত্র ২মিনিট ৫৪ সেকেন্ডের। কিন্তু দেখে মাথা ছ্যাৎ করে উঠল। সেখানে ভারতের একজন মহিলা, তিনি (Center for Organization, Research and Education এ কর্মরত কোন অফিশিয়াল) তিনি খুব দম্ভভরে বললেন, “ভারত হচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার সুপার ড্যাডি।“ তারপর নিদারুণ তুচ্ছতার সঙ্গে উপহাস করে বললেন, “বাংলাদেশ একটা গরীব দেশ। পানির ব্যাপারে তারা তো ভারতের দয়ায় বেঁচে আছে”। এটা হল ( ভিডিওটার লিংক - https://www.facebook.com/photo.php?v=2166037388845 )
এদেশের সুধী সমাজের কিছু এলার্জি আছে। এই এলার্জির জন্ম মূলত বিদেশে, নিজেদের এই এলার্জি তারা এদেশের মুসলিমদের মধ্যে সংক্রমিত করতে চান। সর্বশেষ ৪ঠা নভেম্বর, প্রথম আলোর জন্মদিনে, সুধী সমাজের জাফর ইকবাল স্যার যে এই এলার্জিতে প্রবলভাবে আক্রান্ত তা ধরা পড়েছে।
এই এলার্জির উপসর্গ হচ্ছে চুলকানি, ইসলাম নিয়ে চুলকানি। পশ্চিমা উদার আদর্শের সাথে যখনই ইসলামের কোন বিষয়ের পার্থক্য ঘটে, এই চুলকানি তখন প্রবলভাবে ধরা দেয়। নারী ইস্যুতে এই চুলকানি প্রবল। বিকিনি পরা সেমিন্যাংটা মেয়ে দেখে অভ্যস্ত কিনা, বোরকা পরা মেয়ে...
আসুন মনে মনে একটা রোমহর্ষক দৃশ্য কল্পনা করি। ধরুন ৩টা বালক জঙ্গলে, তাদের ৫টা ডাইনোসর তাড়া করছে, আর তারা রুদ্ধশ্বাসে দৌড়ে পালাচ্ছে। দৌড়াতে দৌড়াতে ১নম্বর বালক দেখল একটা নদী, নদী দেখে মহানন্দে ঝাপ দিল, ভাবল,”যাক ! ভাগ্যিস সাতাঁর জানতাম ”। ২নম্বর বালক ঢুকে পড়ল একটা ছোট গুহায়, যেখানে ডাইনোসরের মাথা ঢুকবে না, আর ৩নম্বর বালক বানরের মত উঠে পড়ল গাছে, সে গাছে অনেক ডালপালা, বিশালদেহী ডাইনোসরটি মাংশাষী, ঘাষপাতার প্রতি তার আগ্রহ নেই !
...
ফেসবুকে যখন দেখি লোকজন স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য কথা বলছে তখন কেমন যেন একটা অপরাধবোধের গ্লানি চেপে বসে। আমি জানি ফিলিস্তিন জায়গাটা আমাদের মুসলিমদের জন্য একটা আবেগের জায়গা, তারা যা চায় এবং তা ফিলিস্তিনের ভালোর জন্যই বলে, কিন্তু তবুও কিছু সমস্যা থেকেই যায়।
না,কিছু না, অনেক সমস্যা। এই যে আমরা স্বাধীন ফিলিস্তিনের কথা বলছি এটা একটা...
ধরেন, আপনার এক বন্ধুকে আপনি দেখলেন ইভটিজিং করতে। আপনি মানুষটা ভাল, তাই চিন্তা করলেন তাকে ব্যাপারটা থেকে বিরত রাখবেন। তাকে এই কাজ থেকে সরানোর জন্য আপনি তাকে বিভিন্নভাবে ভয় দেখানোর চেষ্টা করছেন।
সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেন এবং ফ্রান্স তখন বিশ্বনেতৃত্বের আসন পাবার খেলায় মত্ত। তারা তখন ধরাকে সরা জ্ঞান করে, অস্ত্র ছাড়া সবকিছুকে তুচ্ছ জ্ঞান করে। সবে মাত্র তারা ভারিক্কি চালে বাকস্বাধীনতার বুলি আওড়াতে শুরু করছে। কি মনে করে বাকস্বাধীনতা প্র্যাকটিস করার জন্য রাসূল(সাঃ) কে বেছে নিল, ঠিক করল একটা নাটক তারা স্টেজে তুলবে। নাটকের নাম...
কিছুদিন আগে পেপারে একটা খবর এসেছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষককে একটা মেয়ে লাঞ্চিত করেছে। কেন এমন ঘটেছে এটা বোঝার জন্য খুব চালাক হওয়ার প্রয়োজন নেই, প্রেমঘটিত এই ধরনের ইস্যু এখন মোটামুটি “কমন” আকার ধারণ করেছে। ব্যাপারটি একই সাথে কিছুটা (দুর্ভাগ্যজনকভাবে) হাস্যরসের উদ্রেককারী,কিছুটা দুঃখবোধের উদেরককারী এবং অনেকখানি দুশ্চিন্তার উদ্রেককারীও বটে। একটা মানুষের হাতে আরেকজন লাঞ্চিত হবে এটা নিশ্চয়ই কোন কাম্য হতে পারে না !
একটা মেয়েকে একটা ছেলে অশালীন কাপড় পরার জন্য ধর্ষণ করেছে নাকি করে নাই –এটা আমার কাছে খুবই অস্বস্তিকর একটা “shallow” আলোচনা মনে হয়েছে। যদি বলা হয়, অশালীন পোষাকই দায়ী, তাহলে ধর্ষক কিছুটা জাস্টিফিকেশন পেয়ে যায়। আবার যদি বলা হয়, “অশালীন পোষাক দায়ী নয়”, সেক্ষেত্রেও মনে হওয়ার কথা, “মানুষ কি ধ্বজ নাকি?”।
কনকোফিলিপ্স নামের একটা কোম্পানি এই দেশের ৮০% গ্যাস তুলে নিয়ে যাবে-এটা যে খুব বড় একটা সমস্যা এটা নিয়ে কোন সন্দেহই নেই। পুজিবাদ মানুষকে খুব স্বার্থপর হতে শেখায়, তারপরেও এদেশের মানুষ এটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছে এটা খুবই আনন্দের বিষয়। বুয়েটের মত জায়গার ছেলেপেলেরা যাদের একটা বিশাল অংশ শুধু পড়াশোনা,গার্লফ্রেন্ড আর বার্সা-চেলসির খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকে তারাও আজকে অনেক সোচ্চার !