A Portrait of Glorious Bangladesh
Home

ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল : গনতান্ত্রিক দেশগুলোতে কি নিষিদ্ধ?

মোকাররম হোসেন, পিএইচডি গবেষক,জার্মানী।
email. mokarram76@yahoo.com

সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশের অন্যতম আলোচিত বিষয় ধর্মভিত্তিক রাজনীতি। কয়েকটি দলের জোরালো দাবি, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।দাবী জানানো হচ্ছে সরকার বিশেষত নির্বাচন কমিশন সমীপে।প্রথমদিকে কিছুটা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগলেও শেষ পর্যন্ত কমিশন সরাসরি জানিয়ে দিয়েছেন এটা তাদের এখতিয়ার ভুক্ত নয়।বর্তমান বাংলাদেশ সংবিধানও তা সমর্থন করেনা।দেশের বিভিন্ন অবস্থায়,বিভিন্ন সমস্যায় প্রায়ই ইউরোপ,আমেরিকার উন্নত গনতান্ত্রিক দেশগুলোর উদাহরন টেনে আনা হয়। ধর্মভিত্তিক রাজনীতি বিষয়ে সেই সব গনতান্ত্রিক দেশের অবস্থান কি? ধর্মীয় দল বলতে কি সেসব দেশে কিছু নাই?

জ্ঞান বিজ্ঞান,শিল্প সাহিত্য আর নিত্য নতুন আবিষ্কারের দেশ জার্মানী।গেলো শতাব্দীর আলোচিত মতবাদ সমাজতন্ত্রের প্রবক্তা কার্ল মার্কস,হেগেলস জার্মানীর সন্তান।ফ্রয়োডীয় যৌনতত্ত্বের প্রবক্তা সিগময়েড ফ্রয়েড একজন সুইজ জার্মান।এ দেশেরই সন্তান হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী আইনষ্টাইনের নাম কে না জানে!সেই জার্মানীতে বর্তমান ক্ষমতাশীল দলটির নাম ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি।সহযোগী আরেকটি দল ক্রিশ্চিয়ান সোসালিষ্ট ইউনিয়ন।বর্তমান চ্যান্সেলর আঞ্জেলা মার্কেল এই দলেরই নেত্রী।বহুদিন থেকে তারা জার্মানীর বৃহত্তম দল হিসেবে পরিচিত।শাষন করেছে অনেক অঙ্গরাজ্য।কেউ কোনদিন দলটিকে নিষিদ্ধের দাবী তুলেছে বলে শোনা যায়নি।

ওয়েষ্ট মিনিষ্টার ধারার গনতন্ত্রের প্রবক্তা যুক্তরাজ্য।গনতন্ত্রের জন্য দুটি দেশের নাম বললে যার নাম অবশ্যই আসে তার একটি যুক্তরাজ্য।সেখানে দিব্যি ষ্কটিশ ক্রিশ্চিয়ান পার্টি নামের দলটি বৈধ ভাবেই রয়েছে।তারা ২০০৪ সালে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে স্কটল্যান্ড থেকে নির্বাচন করে ১ . ৮ শতাংশ ভোটও অর্জন করে।বৃটেনের রানী এংলিকান চার্চের প্রধান।এছাড়া বৃটিশ লর্ড সভার ২৫ টি আসন যাজকদের জন্য সংরক্ষিত।

ইউরোপের অন্যতম একটি গনতান্ত্রিক দেশ নেদারল্যান্ডস।চার দলের কোয়ালিশন সরকার বর্তমানে ক্ষমতায় আসীন।বৃহত দলটি ডাচ ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি। কোয়ালিশন সরকারের শরিক দলও ধর্মভিত্তিক ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ)।সিডিইউ এর মূল আদর্শ খৃষ্টান গনতন্ত্র।দলের মূলমন্ত্রে বলা হয়েছে,বাইবেলই একজন সদস্যের অণূপ্রেরনার উতস।সম্প্রতি কোয়ালিশন সরকার নেদারল্যান্ডস থেকে ২৬ হাজার অভিবাসী(মূলত মুসলমান) বহিস্কার করে নিজ ধর্মীয় আনুকুল্যের পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করে।

নিরপেক্ষতা,সমৃদ্ধি আর সৌন্দর্য্যের দেশ সুইজারল্যান্ড।গনতন্ত্র অত্যন্ত শক্ত ভিতের উপর প্রতিষ্ঠিত।

এসব কারনেই হয়তো বংগবন্ধু শেখ মুজিব বলেছিলেন, ” বাংলাদেশকে আমি এশিয়ার সুইজারল্যান্ড বানাবো ” ।

বর্তমানে প্রায় দেড় ডজন দল পার্লামেন্টে সক্রিয়।এর মধ্যে ক্রিশ্চিয়ান পিপলস পার্টি, ক্রিশ্চিয়ান সোসাল পার্টি, ইভানজেলিক পিপলস পার্টি নামের তিনটি দলের মূল ভিত্তিই ক্রিশ্চিয়ান গনতন্ত্র। ক্রিশ্চিয়ান পিপলস পার্টি প্রায় একশত বছরের পুরোণো একটি রাজনৈতিক দল।১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি বর্তমান সরকারের কোয়ালিশন পার্টনার। এটি ২০০৩ সালে ১৫%,২০০৫ সালে ২০ . ৭% এবং ২০০৭ সালে ১৪ . ৬% ভোট অর্জন করতে সক্ষম হয়।

বহুদলীয় গনতন্ত্রের দেশ ইতালী।ইউরোপের অন্যতম সমৃদ্ধশালী এবং জি-৮ সদস্য দেশ।অনেক বছর থেকে কোন দলই এককভাবে ক্ষমতায় যেতে পারেনি।বর্তমানে প্রথম সাতটি প্রধান দলের মধ্যে ক্রিশ্চিয়ান ইউনিয়ন অন্যতম। পার্লামেন্টে এদের সমর্থক প্রায় ৩০ জনেরও বেশি সদস্য রয়েছে।আর জনসমর্থনও ৪% এর উপরে।

ইউরোপের অন্যতম ধনী ও গনতান্ত্রিক দেশ অষ্ট্রিয়া।চরম ডানপন্থী আন্দোলনের নেতা ভিয়েনার মেয়র কার্ল লুগারের নেতৃত্বে ১৮৯৩ সালে গঠিত হয় ক্রিশ্চিয়ান সোসাল পার্টি(সিএসপি)।১৯৪৫ সালে অষ্ট্রিয়ার স্বাধীনতা লাভের পর সিএসপি নাম পরিবর্তন করে অষ্ট্রিয়ান পিপলস পার্টি নাম ধারন করে।২০০০ সালে আরেকটি ডানপন্থী দল অষ্ট্রিয়ান ফ্রিডম পার্টির সাথে কোয়ালিশন সরকার গঠন করে।মাত্র ২ বছর পর ২০০২সালে বিপুল বিজয়ের মাধ্যমে দলটি একক ভাবে আবার সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়।ধর্ম থেকে উতসারিত এ দলটি অষ্ট্রিয়ার ইতিহাসে গত সোয়া শ বছর প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিগনিত হয়ে আসছে।

এছাড়াও ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি ডেনমার্ক,এস্তোনিয়া,আলবেনিয়া,হাইতি,হাঙ্গেরি,লেবানন,নরওযে,সিরিয়া,সুইডেন,দক্ষিন আফ্রিকা,সার্বিয়া,রোমানিয়া,পানামা,পাপুয়া নিউগিনি,বলিভিয়া প্রভৃতি দেশে বিদ্যমান।

বিশ্বের অভিবাসীদের অন্যতম কাঙ্ক্ষিত দেশ কানাডা। বহুদেশ থেকে প্রতিবছর নানা ধর্ম ও ভাষার হাজারো অভিবাসী আসছে এখানে।কানাডার কুইবেক রাজ্যে ২০০০ সালে রোমান ক্যাথলিকদের সহযোগীতায় গঠিত হলো ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি।পার্টির মূলনীতিতে বলা হয়েছে, “ অর্থোডক্স খৃষ্টীয় মতবাদ ও কুইবেক জাতিয়তাবাদের সমন্বয়ই হবে দলের প্রধান লক্ষ্য ” ।দলটি সমকামীদের মধ্যে বিয়ে ও গর্ভপাতের ঘোর বিরোধী। এই তো কিছুদিন আগেই সমকামী আইনের প্রতিবাদে কানাডার ক্রিশ্চিয়ান , ইয়াহুদী , মুসলিম , হিন্দু ও শিখদের ঐক্যবদ্ধ সংগঠন ইউনাইটেড রিলেজন্‌স ফ্রন্ট চার্চ , সিনেগগ , মসজিদ , মন্দির ও গুরুদুয়ারা থেকে আন্দোলন পরিচালিত করল ।

খৃষ্টান মূল্যবোধের পুণর্জাগরনের শ্লোগান দিয়ে খোদ আমেরিকাতেই কাজ করছে ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন।পার্টির ওযেবসাইটে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে এভাবে, ” আমরা শীঘ্রই যুক্তরাষ্ট্রের মুল ধারার দুটি দলের বাইরে তৃতীয় শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবো।এক্ষেত্রে ইউরোপীয়ান ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটদের সাফল্য আমাদের সামনে রাখতে হবে।জার্মানী সহ ইউরোপের অনেক দেশেই তারা ক্ষমতাশীন ” ।

যারা বাংলাদেশের ধর্মীয় রাজনীতি নিষিদ্ধের কোরাস গাইছেন তারা প্রধানত নিজেদেরকে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী বলে দাবী করেন।মজার ব্যাপার হল,সেই কাস্তে হাতুড়ি মার্কা সমাজতন্ত্রের দেশ কিউবাতেও ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি কাজ করে যাচ্ছে।সমাজতান্ত্রিক দল ছাড়া অন্যান্য দলের প্রকাশ্য ততপরতা নিষিদ্ধ থাকায় ক্রিশ্চিয়ান দলটি যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি থেকে দলীয় কার্যক্রম চালিয়ে থাকে।

বহুদলীয় গনতন্ত্রের দেশ অষ্ট্রেলিয়া।রাজনীতিতে বিরাজমান ডজনখানেক ভিন্নধর্মী আদর্শের দল।নিউ সাউথ ডয়েলসেন ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক পার্টি তাদের অন্যতম।বর্তমানে পার্লামেন্টে এই দলের দুই জন সদস্য আছেন। ক্রিশ্চিয়ানদের মাঝে এ দলটি নৈতিকতা বোধ সৃষ্টিতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছে।গর্ভপাত,সমকামিতা,পর্ণগ্রাফী,সমলিঙ্গের মধ্যে বিয়ে ইত্যাদি বিষয়ের তারা কট্টর বিরোধী।২০০৭ সালের নির্বাচনের আগে এক বক্তব্যে অষ্ট্রেলিয়ার মুসলিম অভিবাসী আগমন বন্ধের জন্য সরকারের কাছে আহবান জানিয়ে বেশ আলোচিত হয়েছিলেন দলনেতা ফ্রেড নীল।

আমাদের নিকট প্রতিবেশী দেশ ভারত।জনসংখ্যার দিক থেকে যাকে বলা হয় পৃথিবীর বৃহত্তম গনতান্ত্রিক দেশ।কাগজে কলমে অবশ্য সেকুলার রাষ্ট্রও বলা হয়।হিন্দু পূনর্জাগরনবাদী রাম রাজত্ব প্রতিষ্ঠার স্বাপ্নিক দলটি (বিজেপি) ৫শ বছরের পুরোণো মসজিদ ভেঙ্গে রাতারাতি আলোচিত হলো।১৯৮০ সালে গঠিত বিজেপি ১৯৮৪ সালে মাত্র ২টি আসন নিয়ে যাত্রা শুরু করে পনের বছরের(১৯৯৬) ব্যবধানে ক্ষমতাসীন হয়। কে না জানে দু দুবার সরকার পরিচালনার পর এখন তারা দেশটির বিরোধী দলে।এটাতো গেল হিন্দু ধর্মভিত্তিক দল।এছাড়াও মুসলিম লীগ,জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম,জামায়াতে ইসলামী হিন্দ নামের ধর্মীয় দলগুলোও তো রয়েছে বহাল তবিয়তে।১৯৯২ সালে বাবরী মসজিদ ভাংগার পর কয়েকটি ধর্মীয় দলের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও,পরবর্তিতে সূপ্রিম কোর্টের রায়ে সরকার এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বাধ্য হয়।

আশি শতাংশেরও বেশী হিন্দু অধ্যূষিত দেশ নেপাল।১৮মে ২০০৬ এর আগ পর্যন্ত ছিল পৃথিবীর একমাত্র ঘোষিত হিন্দু রাষ্ট্র।লক্ষীর অবতার গরুকে জবাই করা রাষ্ট্রিয়ভাবেই নিষিদ্ধ,এমনকি জাতিয় পশু হিসেবেও স্বীকৃত।রাষ্ট্রিয়ভাবে ধর্মান্তরিত করন ও নিষিদ্ধ।কাঠমান্ডুর নৃতত্ববিদ কৃষ্ণ ভট্টাচার্যের মতে, ” নেপালের ২৪০ বছরের রাজতন্ত্র মূলত হিন্দুত্ববাদী ধারা থেকে উতগত ” ।সনাতন ধর্ম সমিতি,নেপালি জনতা পার্টি(বিজেপির নেপালী সংস্করন)প্রধানতম ধর্মীয় দল,যা হিন্দুদের আম্ব্রেলা সংগঠন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্য।

তৃতীয় বিশ্বের দেশ হয়েও যোগ্য নেতৃত্বের ফলে মাত্র দুই দশকের মধ্যে যে দেশটি উন্নয়ন ও সহনশীলতায় অনন্য নজীর স্থাপন করেছে তা হল মালয়েশিয়া।বলিষ্ঠ ও ক্যারিশ্মাটিক নেতা মাহাথির মোহাম্মদের দেশ মালয়েশিয়ায় নানা ধর্ম ও জাতির বসবাস।দীর্ঘকাল থেকে ইউনাইটেড মালয় ন্যাশনাল পার্টি বেশ দাপটের সাথেই শাসন করে চলেছে।একমাত্র উল্লেখযোগ্য বিরোধী দলটি (পাস) ধর্মভিত্তিক।অতীতে সেখানে তিনটি রাজ্য শাসনেরও অভিজ্ঞতা আছে দলটির।সহজ সরল জীবন যাপনের জন্য পাসের নেতা নিক আবদুল আজিজের নাম অনেকেরই জানা।

মুসলিম প্রধান দেশগুলোতেও ধর্মভিত্তিক দলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।আফগানিস্থানে হেজবে ইসলামী,বাহরাইন ও ইয়েমেনে আল ইসলাহ পার্টি,মিসর, সিরিয়া, জর্ডানে ইখওযানুল মুসলিমুন,লেবাননে হিজবুল্লাহ,মরক্কতে জাষ্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি,সুদানে ইসলামিক ফ্রন্ট,তিউনিশিয়ায় আন নাহদাহ পার্টি,তুরস্কে সাদাত পার্টি ও ক্ষমতাশীন একে পার্টি,পাকিস্তানে জামায়াত এবং জমিয়তে ইসলামী উল্লেখযোগ্য।এমনকি ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপেও ইসলামী দল আদালাত পার্টি বিদ্যমান।বাস্তবে দেখা যায়,খৃষ্ট প্রধান দেশগুলোতে ধর্মীয় রাজনীতি করা, ক্ষমতায় যাওয়া যত সহজ,মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ততটা সহজ নয়। ইখওয়ানুল মুসলিমুন মধ্যপ্রাচ্যের জনপ্রিয় দল হলেও নিষিদ্ধ করা হয় বহুবার।অবাধ মুক্ত নির্বাচনের মাধ্যমে আশি শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েও ক্ষমতায় যেতে দেওয়া হয়নি আলজেরিয়ার ধর্মভিত্তিক দল ইসলামিক সালভেশন ফ্রন্ট কে। পরাশক্তিগুলোর প্রত্যক্ষ মদদে ক্ষমতা কেড়ে নেয় সামরিক জান্তা (১৯৯০)।ধর্মনিরপেক্ষতার অজুহাতে ১৯৯৭ সালে গনতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত রাফাহ পার্টির প্রধান তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী নাজিমউদ্দীন আরবাকান কে সেনা বাহিনীর হুমকীতে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়।

পাশ্চাত্যের সংবাদ মাধ্যমের গোয়েবলসীয় প্রচারনা দেখে মনে হয় খৃষ্টবাদী পশ্চিমা দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল বলে কিছু নেই।শুধু এরা সমস্যা তৈরী করছে মুসলিম দেশগুলোতে। কানাডা , আমেরিকা, ইউরোপে ধর্মভিত্তিক দল এমনকি ক্রিশ্চিয়ান দল , মুসলিম দল , হিন্দু দল নামে কোন দল আছে কিনা , রাজনীতিতে নির্বাচনের আগে ধর্মের ব্যবহার কেমন হয় , ইলেকশনের আগে ক্যান্ডিডেটরা নিজেদেরকে জনগনের মাঝে কে কত বড় প্র্যাকটিসিং ক্রীশ্চিয়ান প্রমান করার জন্য ব্যস্ত হন অথবা চার্চ থেকে মিছিল বের হয় কিনা তা জানার জন্য আরো একটু পড়াশোনা করার অনুরোধ করছি। যারা বাংলাদেশে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবী তুলছে,বিগত নির্বাচন গুলোতে তাদের জনসমর্থন শূণ্য দশমিক শূণ্য থেকে দশমিক দুই শতাংশের মধ্যে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়,গত নির্বাচনে জাসদ ০ . ২১ ভাগ,ওযার্কার্স পার্টি শতকরা ০ . ০৭ ভাগ,সিপিবি ০ . ১ ভাগ,সাম্যবাদী দল ০ . ০ ভাগ,গনতন্ত্রী পার্টি ০ . ০১ ভাগ,ন্যাপ ০ . ০ ভাগ ভোট পেয়েছিল।

আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে,আমরা কাদের দিকে তাকাবো।বহুদলীয় গনতন্ত্র,মুক্তচিন্তা,বহুমতের চর্চা করে যারা এগিয়ে যাচ্ছে তাদের,নাকি যারা সামরিকতন্ত্র,শেখতন্ত্র,জুলুমতন্ত্র সহ সকল প্রকার একনায়কতন্ত্রের মাধ্যমে জনগনের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা হরন করে দিন দিন অবনতির অতল গহ্ববরে হারিয়ে যাচ্ছে তাদের দিকে।

 

 
© Sonar Bangladesh, 2002-2008, Dhaka, Bangladesh. E-mail: editor@sonarbangladesh.com. Last updated on April 2, 2008